নাটোরে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে গণভোট প্রচারণা, জনমনে ক্ষোভ

0
118
নাটোর পৌরসভার সাড়ে চার কোটি টাকার আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহৃত হচ্ছে গণভোটের প্রচারণায় / ছবি - এই বাংলা

নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোর পৌরসভার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে আসন্ন গণভোটের প্রচারণায়। ভারতের উপহার হিসেবে পাওয়া জীবনরক্ষাকারী এই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সকে ভোটের প্রচারণার কাজে ব্যবহার করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে গণভোট সংক্রান্ত স্টিকার লাগানো হয়েছে এবং এর ওপর সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অথচ, গত প্রায় দুই বছর ধরে দক্ষ জনবল ও অতিরিক্ত ভাড়ার অজুহাতে এই অ্যাম্বুলেন্সটি সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুতে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি নাটোর পৌর মেয়রের হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রথমদিকে পৌরবাসীর মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে খুব কম মানুষই এই অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পেয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বিশেষায়িত এই যান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ টেকনিশিয়ান ও জনবল না থাকায় এবং সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় ভাড়া বেশি হওয়ায় এটি নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে থেকে মূল্যবান এই যানটি কার্যত অব্যবহৃত ছিল।

এ অবস্থায় অসুস্থ রোগী পরিবহনের পরিবর্তে অ্যাম্বুলেন্সটি গণভোটের প্রচারণায় ব্যবহার করায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কানাইখালি এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, “এই অ্যাম্বুলেন্স মানবিক সেবার জন্য দেওয়া হয়েছে। ভোটের কাজে ব্যবহার করা জনস্বার্থবিরোধী।”

মাদরাসামোড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। এটি যদি ভোটের কাজে চলে, তাহলে গুরুতর রোগীরা সেবা পাবে কীভাবে?”

এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, সকালে পৌরসভায় এসে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার দেখতে পান। তবে অ্যাম্বুলেন্সটি এভাবে ব্যবহারের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, নাটোর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এস. এইচ. এম. মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here