নাগেশ্বরীতে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

0
160
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পল্লী বিদ্যুৎ লাইনম্যান মোঃ শাহিন আলম বাবুর বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক লাইনম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ আদায়, অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক পোল স্থাপন এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মুখে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওই লাইনম্যানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

অভিযুক্ত লাইনম্যান হলেন কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের মো. শাহিন আলম বাবু। অভিযোগে তাঁর সহযোগী হিসেবে মো. আব্দুস ছালামের নামও উঠে এসেছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাহক মো. দুলাল মিয়া অভিযোগ করে জানান, দুর্যোগে তাঁর ক্ষুদ্র সেচ সংযোগের মিটারের ডিসপ্লে নষ্ট হলে সেটিকে অজুহাত বানিয়ে লাইনম্যান শাহিন আলম তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। তিনি জানান, প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভয়ভীতির কারণে পরদিন ৬ হাজার টাকা দেওয়া হলেও কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার সেচ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, মিটারের ত্রুটি সংক্রান্ত কোনো লিখিত নোটিশ বা অফিসিয়াল ডিমান্ড দেওয়া হয়নি। রশিদ ছাড়া অর্থ গ্রহণ করায় পুরো বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া নুনখাওয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মোখলেছুর রহমান, মো. আজিজুল রহমান ও মো. শাহাবুদ্দিন পৃথক লিখিত অভিযোগে জানান, লাইনম্যান শাহিন আলম ও তার সহযোগী আব্দুস ছালাম নিয়মবহির্ভূতভাবে বৈদ্যুতিক পোল স্থাপন করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন এবং সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অভিযোগ নিয়ে নাগেশ্বরী জোনাল অফিসে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে অভিযুক্ত লাইনম্যান মো. শাহিন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাকে জড়িয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত লাইনম্যানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ পোল স্থাপনের বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here