প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে কুড়িগ্রামে শীতার্তদের কম্বলের ৪১ লাখ টাকা ফেরত
এইবাংলা অনলাইন
প্রকাশকালঃ
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
দেশের অন্যতম শীতপ্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামে দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল ক্রয়ের প্রায় ৪১ লাখ টাকা ব্যয় না হওয়ায় সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসক ও তৎকালীন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার মধ্যে প্রশাসনিক মতবিরোধ এবং সমন্বয়হীনতার কারণেই সময়মতো কম্বল কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন জেলার হাজারো নিম্নআয়ের মানুষ।
সরকারি নথি অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের অনুকূলে কম্বল ক্রয়ের জন্য ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। পরে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি জারি করা আরেকটি আদেশে ওই বরাদ্দ জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অনুকূলে স্থানান্তর করা হয়। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, কম্বল ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিএ-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে ই-জিপি পদ্ধতিতে ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন কুড়িগ্রামের মানুষ তীব্র শীতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল, তখন কেন সময়মতো কম্বল কেনা হলো না? প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার দায় কেন সাধারণ মানুষকে বহন করতে হলো?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কম্বল ক্রয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং তৎকালীন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিনের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে হতে শীত মৌসুম শেষ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বরাদ্দের অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “কম্বল কেনা নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার মধ্যে মতবিরোধ ছিল। এ কারণেই শেষ পর্যন্ত বরাদ্দের টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।”
বর্তমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। কী কারণে কম্বল ক্রয়ের টাকা ফেরত গেছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুশাসনকর্মীদের মতে, সরকারি অর্থ ফেরত যাওয়ার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এটি সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব পালনে অদক্ষতারও প্রতিফলন। তাদের দাবি, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান,
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।