মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

গুরুদাসপুরে ‘কালো জাদুর’ অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

নাটোরের গুরুদাসপুরে ‘কালো জাদু’ ও ‘কুফরি কালাম’ করার অভিযোগ তুলে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনায় উপজেলা যুবদলের সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ঘটনার দুটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে তিন নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামের পাকা সড়কে ঘোরানোর দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় তাদের পেছনে কয়েকজনকে হাঁটতে এবং হৈ-হুল্লোড় করতে দেখা যায়।

অপর একটি ভিডিওতে জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে ওই তিন নারীকে আটকে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ‘ছাবলু’ নামে এক ব্যক্তি সংবাদকর্মীদের ক্যামেরার সামনে তাদের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। পাশেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন জিয়া।

স্থানীয়দের দাবি, তান্ত্রিকের মাধ্যমে জানতে পেরে জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাতিজিকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘কালো জাদু’ করে ‘বান’ মারার অভিযোগ তোলা হয় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বাড়ি থেকে তুলে এনে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানো হয়। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় তাদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, কালো জাদু করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে এবং পরে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন ইয়ারুল ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কবিরাজের মাধ্যমে ওই তিন নারী তার মেয়ের ওপর ‘কুফরি কালাম’ ও ‘বান’ করেছেন। এতে তার মেয়ের শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইয়ারুল ইসলাম। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল হান্নান বলেন, তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানোর বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর