সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কাঁঠালিয়ায় জমি দখলের অভিযোগ, কেটে নেওয়া হলো ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার গাছ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় এক প্রবীণ ব্যক্তির ক্রয়কৃত জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের গাছ কেটে নেওয়া এবং পরে সেখানে ঘর তুলে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ওই প্রবীণকে মারধর ও রক্তাক্ত জখমের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আঃ ছালাম সিকদার (৭৪) বাদী হয়ে জালাল শরীফ (৫৭), নিজাম উদ্দিন (৫৫), ফিরোজ শরীফ (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে কাঁঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নলছিটি উপজেলার দক্ষিণ কামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আঃ ছালাম সিকদার কাঁঠালিয়া উপজেলার তালগাছিয়া মৌজায় এসএ খতিয়ান নম্বর ৬১ ও দাগ নম্বর ৫৪১-এর জমি মোসা. রানী বেগমের কাছ থেকে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে তার নিজ বাড়ি ওই জমি থেকে দূরে হওয়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর অভিযুক্তরা ওই জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যান। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সেখানে ঘর নির্মাণ করে জমির আকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

আঃ ছালাম সিকদার জানান, গাছ কাটা ও জমি দখলের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি বলেও জানান তিনি।

আঃ ছালাম সিকদার বলেন, “আমার বয়স ৭৪ বছর। আমার অনুপস্থিতিতে তারা আমার ক্রয়কৃত জমির গাছ কেটে ঘর তুলে দখল করে নিয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে রক্তাক্ত জখম করার হুমকি দেওয়া হয়। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এদিকে, জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও করছেন তারা।

কাঁঠালিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর