ডিমলায় লুটপাট ভাংচুরের অপরাধ ঢাকতে মশাল মিছিল ও মানববন্ধ

বুড়িতিস্তা খনন প্রকল্প ঘিরে আনসার ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলা, লুট অস্ত্র–গুলিসহ কোটি টাকার ক্ষতির অপরাধ ঢাকতে মশাল মিছিল মানববন্ধ

0
208
ডিমলায় বুড়িতিস্তা খনন প্রকল্প ঘিরে আনসার ক্যাম্পে লুটপাট ভাংচুরের অপরাধ ঢাকতে মশাল মিছিল / ছবি - এই বাংলা

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নীলফামারীর ডিমলা–জলঢাকা মধ্যবর্তী বুড়িতিস্তা নদীর ওপর অবস্থিত কালীগঞ্জ বুড়িতিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ আনসার ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সেতু ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনাটি সুরক্ষার দায়িত্বে ছিল ওই আনসার ক্যাম্প।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মে মাসে ‘বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক মেগা প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ধরা হয় ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বুড়িতিস্তা নদী খনন কাজে প্রথম ধাপে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রকল্প এলাকায় পাউবোর অধীনে এসএ ও বিএস রেকর্ডভুক্ত মোট ১ হাজার ২১৭ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৬৬৭ একর জমিতে নদী খননসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে বুড়িতিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন ও উজানের কুঠিরডাঙ্গা এলাকায় ৭ শতাধিক ভূমিদস্যু পাউবোর রেকর্ডীয় জমি দখল করে রাখে। খনন কাজ শুরু হলেই দখলদারদের সঙ্গে পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। একাধিকবার মামলা হলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভূমিদস্যু নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে মাইকিং করে শত শত লোক জড়ো করে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। হামলায় ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় আনসার সদস্যদের ১০ রাউন্ড গুলি, প্রায় ৫০ জন সদস্যের ব্যক্তিগত মালামাল, আসবাবপত্র, রেশন ও নগদ অর্থ লুট করা হয়। পাশাপাশি খনন কাজে ব্যবহৃত ৭টি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অকেজো করে দেওয়া হয়।

পরদিন ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে আনসার সদস্যদের অস্ত্রের মুখে ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর অবশিষ্ট মালামাল লুট এবং সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় দিনের হামলার পর বিকেল ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় জলঢাকা ও ডিমলা থানার পুলিশ যৌথভাবে জবরদখল হওয়া আনসার ক্যাম্প পুনরুদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে ক্যাম্পে কার্যত কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। একটি পাকা ভবন উদ্ধার করা হলেও সেটির দরজা–জানালাও খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এখনো লুট হওয়া অস্ত্র, গুলি ও মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এই সহিংসতায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনায় জলঢাকা পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জুলফিকার রহমান বাদী হয়ে ৩ জানুয়ারি জলঢাকা থানায় ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বুড়িতিস্তা জলাধার খনন ঠেকাতে একটি অসাধু চক্র মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দিচ্ছে। পাউবো কেবল অধিগ্রহণকৃত ১ হাজার ২১৭ একরের মধ্য থেকে ৬৬৭ একর জমিতেই কাজ করবে। ব্যক্তিগত তিন ফসলি জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

তিনি আরও বলেন, “কেপিআইভুক্ত বুড়িতিস্তা ব্যারেজ ও আনসার ক্যাম্পে প্রকাশ্য হামলা ও লুটপাট রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আগের ঘটনাগুলোতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা আরও সাহসী হয়েছে। দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এই ঘটনায় কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং সংগঠিত ভূমিদস্যু চক্র দমনে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here