দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার রাজাপুর-বাদুরতলা সড়কটি এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পুরো সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার সময় এসব গর্তে পানি জমে রাস্তার প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরের মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা ও পানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অটোরিকশা চালক মো. আকাশ হোসেন বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, ফলে আয় করার চেয়ে মেরামতের খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক মো. রাকিব হোসেন জানান, বৃষ্টির সময় গর্ত চেনা যায় না, ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে এবং তিনি নিজেও একবার আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. খোকন বলেন, বছরের পর বছর একই অবস্থা থাকলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
আরেক বাসিন্দা মো. সবুজ বলেন, এই সড়কের দুরবস্থা শুধু যাতায়াত নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং খরচও বেড়ে গেছে, পাশাপাশি ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক মেরামত না করে টেকসই সংস্কার কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৫৫-১৫৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, ফোন - ০২-৮৮৭০০৩৫৬, ০২-৮৮৭০০৩৫৭।