বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাসিরনগর–ধরমন্ডল আঞ্চলিক সড়কে বেহাল দশা, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
সড়কে বেহাল দশা / ছবি : এই বাংলা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে ধরমন্ডল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ দুর্ঘটনাপ্রবণ ও চলাচল-অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বন্যার পর থেকে সড়কটির পিচ–খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, অনেক জায়গায় সড়কটি পরিণত হয়েছে কাঁচা রাস্তার মতো। ফলে লাখাই উপজেলার সাতটি গ্রাম ও ধরমন্ডল ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘাসুরা (কালিগঞ্জ) থেকে বলভদ্র নদী হয়ে লক্ষীপুর পর্যন্ত এই সড়কে প্রতিদিন শত শত যাত্রী, সিএনজি, মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাতের অন্ধকারে বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বছর আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়কটি পাকা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এর পিচ–কার্পেটিং উঠে গিয়ে জায়গায় জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সড়কের এমন নাজুক অবস্থা যে এটি পাকা সড়ক না কাঁচা সড়ক—তা বোঝা কঠিন।

রিপন মিয়া ও সোহেল নামে দুই বাসিন্দা বলেন, “পুরো উপজেলায় এমন খারাপ সড়ক আর নেই। আমরা বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন জানান, সড়কের দুরাবস্থার কারণে তাদের যানবাহন চালাতে হয় বিকল্প পথ দিয়ে। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়। এতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ভাঙা পথ পেরিয়ে তাদের প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয়, ফলে তারা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না। শিক্ষার্থী ইয়াছমিন আক্তার বলেন, “রাস্তার বেশির ভাগ জায়গা ভেঙে গেছে। স্কুলে যেতে খুবই কষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত দরকার।”

এ বিষয়ে ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কের সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। তবে এটি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না—সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”

এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত