বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোয়ালনগরে সাবমার্সিবল রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধ: ১৪ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
নাসির নগর -গোয়ালনগর ১৪ গ্রামের মানুষের যোগাযোগের বেহাল দশা / ছবি - এই বাংলা প্রতিনিধি

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হাওরবেষ্টিত গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ ও গোয়ালনগর বাজার (আইডি-৪১২৯০৩০০২) পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সাবমার্সিবল রাস্তা নির্মাণ এবং তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে অবহেলিত, অনুন্নত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

গোয়ালনগর ইউনিয়নের ভিটাঢুপি, রামপুর, নওগাঁ, মাইজখোলা, কদমতলী, ঝামারবালী, লালুয়ারটুকসহ পুরো এলাকায় যোগাযোগের অবস্থা নাজুক। হাওরের মধ্যে বিচ্ছিন্ন এসব গ্রাম বর্ষায় পুরোপুরি নৌকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও নদীর পাড় ও ক্ষেতের আঁকাবাঁকা আইল ছাড়া চলাচলের আর কোনো উপায় নেই।

এ পরিস্থিতিতে শিশু, নারী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। শুষ্ক মৌসুমে ঝড়, তীব্র রোদ, কাদা মাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়; আর বর্ষায় নদীর ঢেউ ও স্রোত হয়ে ওঠে প্রাণসংহারী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ভয়াবহ। গোয়ালনগর ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে অনেককে কয়েক কিলোমিটার কাদা পেরিয়ে অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হয়। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থীই বিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। এতে বাল্যবিয়ে ও সামাজিক ঝুঁকিও বাড়ছে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ। জরুরি সময়ে উপজেলা বা জেলা সদরে পৌঁছাতে না পারায় গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ ও সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু না হলে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সার্বিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন আরও পিছিয়ে পড়বে। রাস্তাটি সম্পন্ন হলে ১৪টি গ্রামের মানুষের জীবনমান বদলে যাবে এবং তারা মূলধারা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত