চিকিৎসক ও জনবল সংকটে অচল আমুয়া হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত দুই লক্ষাধিক মানুষ

0
177
ঝালকাঠির কাঠালিয়ার আমুয়া হাসপাতাল / ছবি - এই বাংলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :


ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চরম সংকট এবং দীর্ঘদিন ধরে প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি অচল থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ।

দু’লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত কাঁঠালিয়া উপজেলায় একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি। অথচ বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসকসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি পদ শূন্য থাকায় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে ব্যবহার না করা ও অবহেলার কারণে হাসপাতালের কোটি টাকার দুটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, একটি ইসিজি মেশিন এবং প্যাথলজি ল্যাবের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এক্স-রে, ইসিজি ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ৬১ বছরের পুরনো এই হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), কনসালটেন্ট, সার্জন, গাইনি, মেডিসিন, অ্যানেস্থেসিয়া, ডেন্টালসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এছাড়া নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্টোরকিপার, ওয়ার্ডবয়, আয়া, গার্ড ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ মোট ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ মে একমাত্র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজিস্ট) মৃত্যুবরণ করার পর থেকে এক্স-রে বিভাগটি বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আর কোনো টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে।

প্যাথলজি ল্যাবের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় সেখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। দীর্ঘদিন ধরে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে ৫৬টি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন।

রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসক সংকট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া, রাজাপুর, বেতাগী, ঝালকাঠি সদর ও বরিশাল শহরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাশবুনিয়া গ্রামের মো. ছগির হোসেন বলেন, “জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা দিতে বলেছেন, কিন্তু এখানে কোনো পরীক্ষা হয় না। বাধ্য হয়ে বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিকে টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, সরকারি হাসপাতালে এসেও সেবা পাচ্ছি না।”

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন মাত্র দুইজন চিকিৎসক শতাধিক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, চর্মরোগ, সর্দি-কাশি ও প্রসূতি সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার বলেন, “১৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে বর্তমানে আমিসহ মাত্র ৪ জন কর্মরত আছি। জনবল সংকটের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে কনসালটেন্ট না থাকায় কোনো বড় অপারেশন করা যাচ্ছে না। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় এক্স-রে ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং অচল যন্ত্রপাতি সচল করা না হলে কাঁঠালিয়ার আমুয়া হাসপাতাল নামেই হাসপাতাল হয়ে থাকবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here