চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ দেশের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গণভোটকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে সরকার বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে ভোটের গাড়ি ক্যারাভান ও সুপার ক্যারাভান শহর, বন্দর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণভোটের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যারাভানের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বহু মানুষ গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, এমনকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ার সাহসও হারিয়ে ফেলেছিল। এসব ক্ষোভ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিল, অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। সেই গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন ছিল, তারই প্রতিফলন ঘটেছে জুলাই জাতীয় সনদে। এই সনদ জনসমর্থনে পাস হলে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হবে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ক্যারাভান বা সুপার ক্যারাভানের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। যারা গণভোট সম্পর্কে কম জানেন, তাদের সচেতন করতে হবে এবং জনমত গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চট্টগ্রামে উদ্বোধন হওয়া এই সুপার ক্যারাভান শুধু শহরকেন্দ্রিক না থেকে প্রত্যন্ত এলাকাতেও গণভোটের প্রচার কার্যক্রম জোরদার করবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

