সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাচ্ছে ভারত, কৌশল নাকি প্রতিযোগিতাকে অবমূল্যায়ন?

ক্রীড়া ডেস্ক
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ভারত দল ঘোষণা করতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে দেশটি অনূর্ধ্ব-১৯ ডেভেলপমেন্টাল স্কোয়াড পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কি গুরুত্ব কম দিচ্ছে ভারত? তবে দেশটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে র‌্যাঙ্কিং, আন্তর্জাতিক সূচি, ঘরোয়া লিগ ও তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়নের মতো একাধিক বিষয়।

সাফে তুলনামূলক কম বয়সী বা উন্নয়নমূলক দল পাঠানোর ঘটনা ভারতের জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৮ সালের আসরেও তারা এমন দল পাঠিয়েছিল। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। আর ২০১৮ সালে একই প্রতিপক্ষের কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয় দলটি।

এবারের আসরে অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো মূল জাতীয় দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে তুলনায় ভারতের দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে ভারতের নিয়মিত জাতীয় দলের তারকাদের না পাওয়া দর্শকদের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি সাফকে অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিপক্ষদের তুলনায় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা ভারত এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। তাদের লক্ষ্য ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নেওয়া এবং এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ড্রতে নিজেদের অবস্থান উন্নত করা।

এই লক্ষ্য বিবেচনায় সাফের মতো আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য ঝুঁকি ও প্রাপ্তির হিসাব আলাদা হতে পারে। তুলনামূলক নিচের র‌্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে জিতলে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে খুব বেশি পয়েন্ট নাও বাড়তে পারে। অন্যদিকে ড্র বা পরাজয়ের কারণে র‌্যাঙ্কিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া ভারত ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এই সূচি ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সময়ের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

ঘরোয়া ফুটবলের সূচিও ভারতের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই সপ্তাহের এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের জন্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাবগুলো তাদের মূল একাদশের খেলোয়াড়দের ছাড়তে অনীহা দেখাতে পারে। ফলে অনূর্ধ্ব-২৩ বা উন্নয়নমূলক দল পাঠানোর মাধ্যমে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন ঘরোয়া লিগের সূচি ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবেও সাফকে কাজে লাগাতে পারে ভারত। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে সিনিয়র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তরণে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ, প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ এবং দর্শকদের উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের পরিণত হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।

২০১৮ সালের সাফে ভারতের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইনের অধীনে অনিরুদ্ধ থাপা, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, আশিক কুরুনিয়ানের মতো উদীয়মান খেলোয়াড়েরা প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই ভারতের সিনিয়র জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। ওই আসরে সুভাশিষ বসুও দলের হয়ে খেলেছিলেন।

ভারত সাফকে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়নের মঞ্চ হিসেবে দেখলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দলগুলোর কাছে এই প্রতিযোগিতা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। ভারতের নিয়মিত তারকারা না থাকলেও দেশটির বিপক্ষে জয় পাওয়া আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাফের ইতিহাসেও ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। ১৪টি আসরের মধ্যে ভারত জিতেছে নয়টি শিরোপা। মালদ্বীপ জিতেছে দুটি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান পেয়েছে একটি করে শিরোপা। অন্যদিকে নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান এখনো প্রথম শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে।

ভারতের এই দল পাঠানোর সিদ্ধান্তে সাফের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন কতটা বদলাবে, তা মাঠের খেলাতেই স্পষ্ট হবে। তবে এই আসর একদিকে যেমন দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দলগুলোর জন্য ভারতের বিপক্ষে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ, অন্যদিকে ভারতের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর