খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের কাছে দুটি হরিণ ও একটি ভালুক হস্তান্তর করলেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা

0
171
খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের হাতে তিনটি বন্যপ্রাণী তুলে দিলেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা / ছবি - এই বাংলা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

শিশুকাল থেকে পরম মমতায় লালন-পালন করা দুটি হরিণ ও একটি ভালুক স্বেচ্ছায় বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন প্রাণিপ্রেমী নবদ্বীপ চাকমা।

মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি শহরের তেঁতুলতলা এলাকার নিজ বাসভবনে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞ্রার কাছে প্রাণিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে প্রাণিগুলো বনবিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়ে উঠেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষায় সচেতন ভূমিকা রেখে আসছেন। শিকার করা হরিণের মাংসসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ বিক্রি থেকে স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের বিরত রাখতেও তিনি কাজ করেছেন।

নবদ্বীপ চাকমা বলেন, বর্তমানে তিনি প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন এবং খাগড়াছড়ি শহরে বসবাস করছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে আহত বা অসহায় বন্যপ্রাণীর খবর পেলে সেগুলো উদ্ধার করে লালন-পালন করেন। বুদ্ধের বাণী ‘জীবহত্যা মহাপাপ’—এই নীতিতে বিশ্বাস রেখেই তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও জানান, হস্তান্তর করা দুটি হরিণ তিনি একেবারে ছোট বয়স থেকেই লালন-পালন করেছেন। ভালুকটি আহত অবস্থায় এবং একটি বানর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও উপযুক্ত মাধ্যম পাচ্ছিলেন না। অবশেষে অনিমেষ চাকমার মাধ্যমে প্রাণিগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞ্রা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় নবদ্বীপ চাকমা ও অনিমেষ চাকমার মতো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগে জড়িতদের উৎসাহিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাণিগুলো দ্রুত সেখানে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, প্রাণিগুলো হস্তান্তরের সময় নবদ্বীপ চাকমার পরিবারের সদস্যদের চোখে জল দেখা গেলেও উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here