কুড়িগ্রামে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন, চরম দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

0
237
কাপড় কেনার টাকা নেই, এই শীতে এখন কম্বলও পাই নাই বাবা (শীতার্ত নারী) / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। টানা এক সপ্তাহ ধরে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে জেলার শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। গত চার দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও নৌযান চলাচল।

ঘন কুয়াশার কারণে নদীঘাটগুলো থেকে সময়মতো শ্যালো নৌকা ছেড়ে যেতে পারছে না। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। জনসমাগমস্থলগুলো অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, ১ জানুয়ারির পর থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

সরেজমিনে চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত চর নয়ারহাট ইউনিয়নের বজরা দিয়ারখাতা এলাকায় দেখা যায়, প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো ধান, পেঁয়াজ, আলু ও ভুট্টার চারা রোপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক মজিদুল ইসলাম (৬০), কাদের মিয়া (৫০) ও মীরবকস (৪৫) জানান, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ভোরে মাঠে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সকাল ১০টার পর কাজ শুরু করতে হয় এবং বিকেল ৪টার মধ্যেই কুয়াশা নেমে আসায় কাজ বন্ধ করতে হচ্ছে। এতে তাদের কাজ ও আয় দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নারীপ্রধান পরিবার বজরা দিয়ারখাতার বাসিন্দা মমেনা খাতুন (৬০) বলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ নেই। ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজ করতে না গেলে খাবার জোটে না। শিশুদের শীত নিবারণের মতো পর্যাপ্ত কাপড় বা কম্বল নেই।

গৃহবধূ জহিরন বেগম (৩০) জানান, ঠান্ডা পানিতে কাজ করায় হাত-পা ব্যথা ও চুলকানিতে ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি নিজে ও এক বছরের শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা সেবা পেতে নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

একই অবস্থা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় অবস্থিত প্রায় ৪২০টি চরের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এসব চরাঞ্চলের মানুষ শীত, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমানের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার ২০০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতার্তদের সহায়তায় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ লাখ টাকা করে মোট ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে শীতবস্ত্র ক্রয় ও বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা শিগগিরই বিতরণ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here