কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে শিক্ষা সংকট: আড়াইশ চরে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়

0
284
কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় ২৫০ চরে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

নদীভাঙন ও চর পরিবর্তনের বাস্তবতায় কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা এখনো অধরা। শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত এসব চরে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো সরকারি পরিকল্পনা নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চর কালির আলগায় প্রায় ৪০০ পরিবার বসবাস করলেও সেখানে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে শত শত শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শুধু কালির আলগা নয়, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বালাডোবা, মুসারচর, আটাশির চর, মাঝিয়ালির চর, মসলার চরসহ ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী অধিকাংশ চরেই একই চিত্র দেখা যায়।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত চারটি বড় নদীর অববাহিকায় চার শতাধিক চর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াইশ চরে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের স্কুলে যেতে হলে নদী পার হতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। ফলে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন অনেক অভিভাবক।

স্থানীয়দের মতে, কিছু পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে শিশুদের রেখে পড়াশোনার ব্যবস্থা করলেও অধিকাংশ শিশুই প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।

কালির আলগা চরের বাসিন্দা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বছর আগে জেগে ওঠা এই চরে এখন প্রায় ৫০০ শিশু বসবাস করছে। কিন্তু একটি বিদ্যালয় না থাকায় তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। তিনি দ্রুত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

একই দাবি জানান উলিপুর উপজেলার মুসার চরের বাসিন্দা মোঃ শামসুল হক। তিনি বলেন, চার শতাধিক পরিবার থাকা সত্ত্বেও এখানে কোনো বিদ্যালয় নেই, যা শিশুদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় জানান, নদীভাঙন ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চরাঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলার চার শতাধিক চরাঞ্চলে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here