কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় পুলিশের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় এক শিবির নেতার মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা শহরের রাজারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত শিবির নেতাদের নাম মোঃ সুজন মিয়া ও মোঃ সামিদ সাকি মাহিন। মোঃ সুজন মিয়া রাজারহাট উপজেলা পশ্চিম থানা শিবির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার বাড়ি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নে বলে জানা গেছে। আর মাহিন ছাত্রশিবিরের রাজারহাট উপজেলা শাখার সাবেক অফিস সম্পাদক এবং জেলা স্কুল বিভাগের বাইতুল মাল সম্পাদক। তার বাড়ি রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নে।
তাদের উপর রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ রুবেল পাটোয়ারী, সদস্যসচিব মোঃ মিজানুর রহমান সাদ্দাম, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ, সেক্রেটারি নাছিম এবং ছাত্রদল নেতা আল মিজান মাহিনসহ বেশ কয়েকজন হামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
হামলার শিকার শিবির নেতা মাহিন বলেন, ‘শিবিরকে নিয়ে দেয়াল লিখন, ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যের জেরে রাজারহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক রুবেল মিয়াকে তার কর্মস্থল রাজারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। আমি এবং শিবির সভাপতি সুজন ভাই মোটরসাইকেলে করে কলেজের সামনে পৌঁছাতেই সেখানে আগে থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারীর নেতৃত্বে সদস্যসচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ, সেক্রেটারি নাছিম এবং ছাত্রদল নেতা আল মিজান মাহিন আমাদের গতিরোধ করেন।
এ সময় তারা শিবির সভাপতি সুজন মিয়াকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তাদের হামলায় সুজন ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। আমি মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আমাকেও পেটান। এতে আমার গায়ের পোশাক ছিঁড়ে যায়। কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে থাকলেও তারা এগিয়ে আসেননি। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।’
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পুলিশের ভূমিকা প্রশ্ন তোলে এই শিবির নেতা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে চার জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। সুজন ভাইকে উদ্ধারে জন্য আমি গিয়ে তাদের কাছে সহায়তা চেয়েছি। কিন্তু তারা এক পাও এগিয়ে আসেননি।’
মারধরের কথা স্বীকার করে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মোঃ রুবেল পাটোয়ারী বলেন, ‘জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা রুবেল মিয়া ফেসবুকে একাধিক পেজ ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত সরকার, আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলকে নিয়ে নোংরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা কোনও পোস্ট করলে তারা উসকানিমূলক মন্তব্য করে।
এসব বিষয় নিয়ে আজ আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী রুবেল মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল। এ সময় শিবিরের সুজন ও মাহিনসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে আমাদের নেকাকর্মীকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। উত্তেজিত হয়ে আমাদের কয়েকজন ছেলে তাদের পিটিয়েছে। আমি এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। এ সময় আমার গায়েও মাইর লেগেছে। তারা আমাদের নিয়ে বাজে অপপ্রচার না করলে এসব ঘটতো না।’
তবে ছাত্রদল আহ্বায়কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা মোঃ রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমি রাজারহাট উপজেলা জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নামে দুটি আইডি এবং আমার নিজের নামে একটি আইডি পরিচালনা করি। এর বাইরে আর কোনও আইডি বা পেজ চালাই না। কেউ প্রমাণ দিতেও পারবে না।
কাউকে উসকানি বা গালিগালাজ করে কোনও পোস্ট দিই না। গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন এবং বর্তমানে তেল-বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ জাতীয় পর্যায়ে যেসব বক্তব্য দেন আমি সেসব নিয়ে পোস্ট করি। এজন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আজ আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা শিবির নেতাদের ওপর হামলা করেন।’
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মামুনুর রশীদ হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনও পক্ষকে পাইনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
এই বাংলা/এমএস
টপিক

