
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগে জাতীয় পার্টির নেতা মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের মহাপরিচালক মোঃ আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গাকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দিতে সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ পনির উদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, জমা ও নগদায়নের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।
দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম শাখা থেকে রংপুর শাখায় ২০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে সোনালী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম শাখা থেকে সংসদ ভবন শাখার একটি হিসাবে একাধিক দফায় নগদ অর্থ জমা দেওয়া হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এর মধ্যে ১১ নভেম্বর ২৫ লাখ টাকা করে দুই দফায় মোট ৫০ লাখ টাকা, ১৯ নভেম্বর ৫০ লাখ টাকা, ২২ নভেম্বর ৪০ লাখ টাকা এবং ২৫ নভেম্বর ১০ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। এভাবে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নগদে জমা ও উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যান্য আর্থিক লেনদেনসহ মোট ঘুষের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
দুদক আরও জানায়, মোঃ পনির উদ্দিন আহমেদ ‘মেসার্স জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরি’ এবং ‘হক স্পেশাল’ নামে একটি পরিবহন ব্যবসার স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনে এসব ব্যবসায়িক হিসাবও ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা ও মোঃ পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৫ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
এছাড়া মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গার সম্পদের উৎস যাচাইয়ের লক্ষ্যে তার নামে থাকা সম্পদের বিবরণী জমা দিতে নোটিস জারির সুপারিশ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
