বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীবরদীতে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, অপরাধীর দ্রুত শাস্তি দাবি জনতার

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
সোহাগ আলীর ফাঁসির দাবিতে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ / ছবি - এই বাংলা

শেরপুর প্রতিনিধি :


শেরপুরের শ্রীবরদীতে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সোমবার সকালে শ্রীবরদী বাজার মোড়ে কয়েক শতাধিক তৌহিদী জনতা, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নংগরপাড়া গ্রামের যুবক সোহাগ আলী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মসজিদ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ তার দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীবরদী বাজার মোড়ে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক শতাধিক মানুষ। বক্তারা বলেন— “মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা রক্ষায় আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অধিকার কারও নেই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

বক্তারা আরও বলেন, সোহাগ আলীর মন্তব্য মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদায় আঘাত করেছে। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসন বিক্ষোভস্থলে সতর্ক অবস্থান নেয়। পুরো এলাকা টহল ও নজরদারির আওতায় রাখা হয়। পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

বিক্ষুব্ধ জনতা বলেন— “রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় আমরা একতাবদ্ধ। আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্ম রোধ করবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়