বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরাজিতা ফুলের চায়ে জাদুকরী পুষ্টিগুণ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি - সংগৃহীত

গাঢ় নীল রঙের অপরাজিতা ফুলের চা যে কেবল দেখতেই সুন্দর সেটা নয়, এতে পুষ্টিগুণও অফুরন্ত। এই চা যেমন আপনাকে চনমনে রাখবে, তেমনি সুস্থ রাখবে শরীর। এই চা মূলত নীল রঙের হলেও এর গঠনপ্রণালী অ্যাসিডিক পদার্থের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে এই রঙ পরিবর্তন করতে পারে। বৈচিত্রময় এই চা বাংলাদেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু এই চা নিয়মিত খেলে শরীরে কী হয় তা অনেকেরই জানা নেই।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অপরাজিতা চা পানের বেশ কিছু উপকারিতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষায়, মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে, সৌন্দর্য বাড়াতে, ত্বকের যত্নে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এই চা অনেক কার্যকরী। এছাড়াও এই চা সুস্বাস্থ্যের জন্য ঔষধ হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই চা পানের কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে।ন তা জেনে নেই-

১. হজমে সাহায্য করে: অপরাজিতা ফুলের চায়ে মল নিঃসরক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা হজমে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর পরিপাকতন্ত্র গঠনে সাহায্য করে।

২.রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে: অপরাজিতা ফুলের চা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

৩. রীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ করে: অপরাজিতা ফুলের চায়ে অ্যান্থোসায়ানিনস, প্রোনথোসায়ানিডিনস এবং কোয়ার্সেটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের শরীরের র‌্যাডিক্যালগুলিকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে এবং কোষগুলিকে মানসিক চাপ এবং ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

 

৪. শরীরে জ্বালা ভাব দূর করে: নিয়মিত অপরাজিতা বা প্রজাপতি-মটর ফুলের চা পান করলে শরীরের জ্বালা ভাব দূর হয়। এই চা শরীরের অতিরিক্ত উত্তেজনা কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: অপরাজিতা বা প্রজাপতি-মটর ফুলের চা ক্ষুধা দমন ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৬. মেটাবোলিজম বৃদ্ধি: অপরাজিতা ফুলের চায়ে থিয়ানাইন থাকায় নিয়মিত এ চা খেলে শরীরে মেটাবোলিজম বৃদ্ধি পায়। দিনে অন্তত দু’বার এই চা খেলে শরীরে হেপাটিক মেটাবোলিজম বৃদ্ধি পায় ও কোলেস্টেরল কমে যায়।

৭. অ্যাজমা প্রতিরোধ: এতে উপস্থিত স্যাপোনিন ও ফ্লাভোনোয়িড যৌগ অ্যাজমা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

অপরাজিতা ফুলের নীল চা তৈরির পদ্ধতি:

চুলায় একটি সসপ্যানে ৪ কাপ পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে ২টি এলাচ, এক টুকরো আদা, ছোট আকারের ২টি দারুচিনি ও ৭টি অপরাজিতা ফুল পানিতে দিয়ে দিন। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ফুলের নিচের সবুজ অংশ ফেলে দেবেন। মৃদু আঁচে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে যাবে অপরাজিতার নীল চা। মধু মিশিয়ে এই চা পরিবেশন করতে পারেন। চায়ে লেবু মিশিয়ে নিলে এই চায়ের রং নীলের বদলে বেগুনি রং ধারণ করবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়