বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় সভা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে অতীতে সেপ্টেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি, সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবায়দুল হক।

সভায় বক্তারা বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের সুযোগ না পায়, সে জন্য আগাম সতর্কতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খাগড়াছড়ির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ডিজিএফআইয়ের ডেট কমান্ডার কর্নেল মাহফুজ উল বারী, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুপ, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের অধিনায়কসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়