বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবেশ নিষেধাজ্ঞায় প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনে, বেড়েছে বাঘ-হরিণের অবাধ বিচরণ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানুষের কোলাহল ও হস্তক্ষেপ কমে যাওয়ায় বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ বেড়েছে। একই সঙ্গে নদী-খালে মাছের প্রজননের জন্যও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সাধারণ প্রবেশ এবং পাস-পারমিট প্রদান বন্ধ থাকে। এই সময়ে বাঘ, হরিণ, পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নির্বিঘ্নে চলাচল ও প্রজননের সুযোগ পায়। পাশাপাশি নদী ও খালে মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে, যা মৎস্যসম্পদের বংশবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় বন বিভাগ অবৈধ শিকার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানিতে নদী ও খালের লবণাক্ততা কমেছে। ফলে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ বেড়েছে, যা বনরক্ষীদের পর্যবেক্ষণ এবং ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়ছে।

গত জুলাই মাসে সুন্দরবনের অন্তত পাঁচটি এলাকায় আটটি বাঘের দেখা মিলেছে। এর মধ্যে ১৫ জুলাই বিকেলে টহলরত বনকর্মীরা একসঙ্গে তিনটি বাঘকে নদী পার হতে দেখেন। পরে ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক এলাকায় একটি বাঘ এবং ২৬ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য সংলগ্ন টাইগার পয়েন্টে আরেকটি বাঘকে নদী সাঁতরে পার হতে দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

বন বিভাগ সম্প্রতি আন্ধারমানিক ও হাড়বাড়িয়া এলাকায় নতুন ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করেছে। হরিণ শিকারিদের ফাঁদে আহত হয়ে চিকিৎসার পর বনে ছেড়ে দেওয়া একটি বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এসব ক্যামেরা বসানো হয়। ক্যামেরা স্থাপনের পর ১৪ ও ২৪ জুলাই সেখানে তিনটি বাঘের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

২০২৪ সালে বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে বর্তমানে ১২৫টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালে বন বিভাগ ও আইইউসিএনের যৌথ জরিপে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়। বনকর্মীদের মতে, হরিণের সংখ্যা ও চলাচল বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাঘের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পায়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, জুন থেকে আগস্ট সময়টি সুন্দরবনের নদী-খালের মাছ এবং বন্যপ্রাণীর প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। এ কারণেই ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর এ সময় সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হচ্ছে। এবারও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত এক বছরে বন পাহারার জন্য ফুট ট্রেইল কার্যক্রম জোরদার করায় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু মালা ফাঁদই উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার ফুট। এতে হরিণের নিরাপদ বিচরণ বেড়েছে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব বাঘের চলাচলেও পড়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ বলেন, দীর্ঘ সময় বন মানুষের প্রবেশমুক্ত থাকায় এর ইতিবাচক প্রভাব এখন দৃশ্যমান। তিনি মনে করেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় সুন্দরবনকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়ার এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। করোনা মহামারির সময়ও বিশ্বজুড়ে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ও বিচরণ বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়