দেলদুয়ার কৃষি দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল স্থানীয়রা, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

0
187
অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল হাসান / ছবি - সংগৃহীত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :


টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি দপ্তরকে ঘিরে সম্প্রতি একের পর এক অনিয়ম ও স্বার্থবান্ধব সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে। কৃষি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগগুলো স্থানীয় কৃষকদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল হাসান।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কৃষি উপকরণ বরাদ্দ, ডিলার নির্বাচন, প্রণোদনা বিতরণসহ বিভিন্ন কাজে অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্ব নিয়মিত অভিযোগে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—নির্দিষ্ট কিছু ডিলারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে তাদের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী অযাচিত সুযোগ পেয়ে আসছে।

প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রেও অনিয়মের দাবি উঠেছে। কমিটির মতামত ছাড়াই একতরফা সিদ্ধান্ত, তালিকা তৈরিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশ এবং আর্থিক বিনিময়ের অভিযোগ কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান—যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক দরিদ্র কৃষক প্রণোদনা পাননি, আবার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তালিকায় নাম তুলেছেন এমন অনেকের কথাই এলাকায় প্রচলিত।

ডিলার নিয়োগ নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, লাখ টাকার বিনিময়ে নতুন ডিলার নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ও অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া পছন্দের কিছু প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনায় পক্ষপাত দেখানো এবং তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণের অভিযোগও উঠে এসেছে, যা সরকারি তহবিল ব্যবহারে প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার কারণে অফিসে স্বাভাবিক কাজও অনেক সময় ব্যাহত হয়।

একজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই ধরনের অনিয়ম পুরো উপজেলার কৃষি ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী জানান, অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আশেক পারভেজ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে মৌখিকভাবে শুনেছি। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবুও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here