জিঞ্জিরাম নদী ভাঙন রোধে স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের বান্ডাল ও জিও ব্যাগের সুরক্ষা বলয়

0
145
স্বেচ্ছাশ্রমে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন ঠেকিয়ে একটি গ্রামের বদলানোর গল্প / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্ধা এলাকায় জিঞ্জিরাম নদের ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের বান্ডাল ও জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী রক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদটি যখন তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হুমকির মুখে ফেলে, তখন এ উদ্যোগে তাদের কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নৌপথে সায়দাবাদ ঘাট থেকে প্রায় ৪০ মিনিট দূরের বকবান্ধা এলাকা মূলত কৃষি, মাছধরা আর দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল। নদীর তীরের মানুষের অভিযোগ—প্রতি বর্ষায় জিঞ্জিরাম তার গতিপথ বদলে তীর ভাঙতে থাকে, আর তাতেই মানুষ বছরের পর বছর জমি-জিরাত হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

ভাঙন ঠেকাতে গত বছরের শেষ দিকে আরডিআরএস বাংলাদেশের ‘ট্রোসা-২’ প্রকল্পের সহায়তায় স্থানীয়দের অংশগ্রহণে কয়েক দফা বৈঠক হয়। বড় কাঠামো নির্মাণ নয়—দ্রুত কার্যকরী ও কম খরচের সমাধানে একমত হয়ে গ্রামবাসী বাঁশের বান্ডাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। নিজেদের চাঁদা, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থসহ প্রকল্পের কারিগরি সহায়তায় প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় ২৭টি বান্ডাল স্থাপন করা হয়।

তবে বর্ষার তীব্র স্রোতে শুধু বান্ডাল পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাই তারা পাউবোর কাছে জিও ব্যাগের আবেদন করেন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া এসব জিও ব্যাগ স্বেচ্ছাশ্রমে স্থাপন করে বান্ডালের পাশে অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়। এতে অন্তত চার শতাধিক পরিবার ভাঙনের আশঙ্কা থেকে আপাতত রক্ষা পেয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা আনুজা বেগম জানান, এলাকার প্রতিটি বাড়ি থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তোলা হয়। মানুষের শ্রম আর ঐক্যের ফলেই কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়েছে। প্রবীণ বাসিন্দা গুলু মিয়ার ভাষায়, “বাঁশের বান্ডাল আর জিও ব্যাগ না দিলে এখনই সব ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাইত।”

ট্রোসা-২ প্রকল্পের সহকারী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম খন্দকার বলেন, স্থানীয়দের উদ্যোগ যাতে টেকসই হয়, সে জন্য প্রকল্পটি কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়েছে। পাউবোর জিও ব্যাগ, প্রকল্পের নির্দেশনা এবং গ্রামবাসীর শ্রম মিলিয়ে এলাকাটি এখন তুলনামূলক ভাঙনমুক্ত।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, স্থানীয়দের আবেদনের ভিত্তিতে জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি—অস্থায়ী ব্যবস্থায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও স্থায়ী বাঁধ ছাড়া তারা নিরাপদ নন। বকবান্ধা নামাপাড়া ও ব্যাপারীপাড়ার চার শতাধিক পরিবারসহ স্থানীয় বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ এখনো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here