নাটোর প্রতিনিধি :
প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা শেষের সঙ্গে সঙ্গে চলনবিলজুড়ে শুরু হয়েছে শামুক নিধন ও ব্যবসা। পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন আকারের শামুক সংগ্রহে নেমে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা। এসব শামুক স্থানীয় চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি হাঁস ও মাছের খাদ্য হিসেবে কিনছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা এলাকায় শামুক শিকারের এই কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না, ফলে চলনবিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পড়ছে হুমকিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রুহাই, বিলশা, চরবিলশা, পিপলা, হরদমা ও চাকলবিলসহ বিভিন্ন স্থানে ডিঙি নৌকায় করে জাল ফেলে শামুক ও ঝিনুক তোলা হচ্ছে। ভোরে এগুলো বস্তায় ভরে চর-বিলশা পয়েন্টে এনে বিক্রি করা হয়। হাঁস-মাছের খাদ্য ব্যবসায়ীরা এসব শামুক কিনে পাইকারি দরে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন।
শুধু বিলশা পয়েন্টেই প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকার শামুক কেনাবেচা হয়। একজন সংগ্রহকারী দিনে তিন থেকে চার বস্তা শামুক সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতিটি মাঝারি বস্তা ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। এতে একজন শ্রমিকের দৈনিক আয় হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
সংগ্রহকারী মান্নান বলেন, “বর্ষায় মাছ ধরে সংসার চলে। পানি কমে গেলে কাজ থাকে না। তখন শামুক সংগ্রহই আমাদের ভরসা।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন আলী জানান, বিলশা পয়েন্টে তিনজন ব্যবসায়ী শামুক কিনে পাইকারি বিক্রি করেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি ছোট ট্রাকে শামুক বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। প্রায় তিন মাস ধরে এ বেচাকেনা চলে।
হাঁস ও মাছের খাদ্য বিক্রেতা শিশির, সাদেক আলীসহ অন্যরা জানান, ৫০০ হাঁসের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ বস্তা শামুক দরকার হয়, যা তারা বিলশা থেকেই সংগ্রহ করেন।
বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, শামুক পানি থেকে ক্ষুদ্র জীবাণু ও বর্জ্য ফিল্টার করে জলাশয় ও মাটিকে উর্বর রাখে। নির্বিচারে শামুক নিধনের ফলে পানির স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ হবে, মাছ কমে যাবে এবং জমির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলা জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, “শামুককে জলজ প্রাণী হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আইনের প্রয়োগ না থাকায় শামুক নিধন থামছে না।” তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
গুরুদাসপুর কৃষি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শামুক প্রাকৃতিকভাবে পানি পরিষ্কার রাখে এবং শুকনো মৌসুমে পচে গিয়ে মাটির ক্যালসিয়াম বাড়ায়। অতিরিক্ত শামুক নিধন হলে ফসল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “এ ধরনের শামুক সংগ্রহের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। প্রয়োজন হলে জনসচেতনতা বাড়ানো ও অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

