নাসিরনগরে শীতের আগমনে জমে উঠেছে লেপ–তোষকের মৌসুমি ব্যস্ততা

0
256

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :

শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরঘেরা নাসিরনগর উপজেলায় জমে উঠেছে লেপ–তোষক প্রস্তুতের মৌসুমি কর্মযজ্ঞ। সকালে বাতাসে শীতের ছোঁয়া, আর ধুননের ঠুনঠুন শব্দ মিলে চারদিকে তৈরি হয়েছে ব্যস্ততার এক বিশেষ পরিবেশ। এক বছর অপেক্ষার পর কারিগর ও ধুনকরদের কর্মচাঞ্চল্য এখন বহুগুণে বেড়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

গত কয়েকদিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়তেই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে উপজেলা সদর ও আশপাশের হাট–বাজারে লেপ–তোষক তৈরির জোয়ার দেখা গেছে। কেউ দোকানে বসে, কেউবা গ্রামে ঘুরে ঘুরে পুরনো লেপ খুলে তুলা ধুনে নতুন রূপে সাজিয়ে দিচ্ছেন। ধুনকরের দক্ষ হাতে পুরনো লেপ–তোষক মুহূর্তেই হয়ে উঠছে একেবারে নতুনের মতো।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) সরেজমিনে দেখা যায়—ফান্দাউক, বুড়িশ্বর, হরিপুর, চৈয়ারকুড়ি, কুন্ডা, চাপড়তলা, ভলাকুট ও চালতাপাড়সহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তুলা পরিষ্কার, ধুনন, কাপড়ে মোড়ানো ও সেলাই—সব মিলিয়ে চলছে শীতের মৌসুমি কর্মব্যস্ততা।

চাতলপাড় বাজারের ব্যবসায়ী হীরা মিয়া জানান, “সারা বছরই লেপ–তোষক বানাই, তবে শীতের শুরুতেই কাজ বাড়ে। তুলা আর কাপড়ের দাম অনেক বেড়ে গেছে—লেপের কাপড় গজপ্রতি ৫০–৭০ টাকা, তোষকের কাপড় ৫৫–১২০ টাকা। গার্মেন্টস তুলা কেজিপ্রতি ৫০–১৬০ টাকা আর শিমুল তুলা এখন ৪০০ টাকা। লেপ বানানোর মজুরি ৩০০–৪০০ টাকা, তোষক ২৫০–৩০০ টাকা। খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ থাকে না।”

তিনি বলেন, অনেক পরিবার খরচ বাঁচাতে নতুন লেপ বানানোর বদলে পুরনো লেপ ধুনে নতুন কাপড় দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন।

কান্দি গ্রামের গৃহিণী সাথী বেগম বলেন, “নতুন লেপ বানাতে খরচ বেশি। তাই পুরনো লেপটা ধুনিয়ে একটু নতুন তুলা মিশিয়ে বানালাম। এতে খরচ কম, আর টেকসইও হয়।”

অন্যদিকে, নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোখলেছ মিয়া বলেন, “তুলার দাম হঠাৎ বাড়ায় লেপ–তোষকের দামও বেড়েছে। এ কারণে অনেকেই এখন কম্বল কিনছেন। বাজারে দেশি–বিদেশি নানা ধরনের কম্বল আছে, বিশেষ করে কিছু চায়না কম্বল সস্তা হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি।”

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ধুনকরদের ব্যস্ততাও বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র যেমন মানুষের প্রয়োজন মেটায়, তেমনি এই মৌসুমি ব্যবসাই অনেক পরিবারের জীবিকার মূল ভরসা। শীতের শুরুতেই তাই লেপ–তোষকের দোকানগুলোতে ভিড়, তুলার গন্ধ, হাতুড়ির শব্দ আর বিক্রির কোলাহলে নাসিরনগর জুড়ে তৈরি হয়েছে মৌসুমি উৎসবের রূপ; যা প্রতিবছরই শীতের সঙ্গে ফিরে আসে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here