ফরিদপুরের নগরকান্দায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাজমা বেগম নামে এক নারীকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী উসমান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে তিনি নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ৪ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গোড়াইল এলাকায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম। তাঁর বাবার নাম রজব আলী। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা লস্কারপুর গ্রামে।
নাজমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যেই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। তিনি বিদেশে থাকার সময় তাঁর স্বামী সোনার গয়না, গলার হার ও আংটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া মহিষ কেনাসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নিয়েছেন। এসব টাকা ও গয়নার হিসাব চাইলে স্বামী সন্তোষজনক কোনো জবাব দেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ও গয়নার হিসাব চাইতে গেলে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে কিল-ঘুষি, লাথি ও চড় মারেন। একপর্যায়ে কাঠের বাটাম দিয়েও আঘাত করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় এবং বাম চোখের নিচে আঘাতে রক্তাক্ত হন তিনি।
নাজমা বেগমের দাবি, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করেছেন এবং আগের স্ত্রীদেরও নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উসমান মাতুব্বর স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীকে মারছি। সে পারলে আমার নামে থানায় গিয়ে যত পারে মামলা দেক, আমি বুঝব।”
এ ঘটনায় নাজমা বেগম বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস