নাটোরের গুরুদাসপুরে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ধানখেতে মরদেহ ফেলে রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রবিউল মুন্সীকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫। হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া নতুন বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে এসআরবি-৫-এর রাজশাহী সিপিসি-২-এর নাটোর ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রবিউল মুন্সী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার মালিপাড়া এলাকার মৃত তাজেল মুন্সীর ছেলে।
এসআরবি-৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামের ওই গৃহবধূ পোষা ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে গাইনের বিলে আরিফুর ইসলামের পুকুরপাড়ে যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রবিউল মুন্সীকে লুঙ্গি ও টি-শার্ট পরা অবস্থায় শরীরে কাদা মাখা নিয়ে মাঠ থেকে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়। ওই গৃহবধূ বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং রবিউলকে কাদামাখা অবস্থায় চলে যেতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা মাঠে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মামুদপুর গ্রামের একটি আবাদি ধানখেতে কাদার মধ্যে ডোবানো ও কলাপাতা দিয়ে আংশিক ঢাকা অবস্থায় ওই গৃহবধূর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। এসআরবি-৫-এর দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল মুন্সী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুরুদাসপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৫।
এই বাংলা/এমএস