শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নলডাঙ্গার হালতি বিলে অবাধে শামুক নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

স্টাফ রিপোর্টার,নাটোর
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের প্রায় ৪০০ একর বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও তদারকির দুর্বলতার সুযোগে অবাধে শামুক নিধন চালিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। দিনের আলোতেই চলছে শামুক নিধন। এতে বিলের প্রাকৃতিক সম্পদ ক্রমেই কমে আসছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলায় মাঝিরা শত শত নৌকায় বাঁধাই জাল নিয়ে শামুক নিধনে ব্যস্ত রয়েছেন।

সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বী জানান, শামুক প্রকৃতির স্বাভাবিক ‘ফিল্টার’ হিসেবে কাজ করে এবং পানি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। বিলে শামুকের সংখ্যা কমে গেলে পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও শ্যাওলার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে, যা প্রাকৃতিক পানি পরিশোধন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম তালুকদার ডাবলু বলেন, শামুকের খোলসে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে, যা জলাশয়ের তলদেশের মাটি ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া দেশি মাছ, বক, ডাহুকসহ বিভিন্ন জলচর পাখির খাদ্য হিসেবে শামুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবে শামুকের সংখ্যা কমতে থাকলে বিলের সামগ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এনটিভি অনলাইনের সাংবাদিক রানা আহম্মেদ বলেন, এ সংকট উত্তরণে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে হালতি বিলে নিয়মিত টহল জোরদার, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং শামুক নিধন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাঁস ও মাছের খামারিদের জন্য বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে বিকল্প প্রস্তুতকৃত খাবার বা রেডিমেড ফিডের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় হাটবাজারে শামুক কেনাবেচা ও পরিবহন বন্ধে মাইকিং এবং সাধারণ মানুষ ও খামারিদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে হালতি বিলে অবৈধ শামুক নিধন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, শামুকে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। জমিতে শামুক থাকলে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন কমে, যা ফসলের জন্য উপকারী। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে শামুক নিধনের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, ‘ইতিমধ্যে শামুক নিধনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। হালতি বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।’

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর