কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এ সময় সার বিতরণের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) মো. রফিকুল ইসলামকে এক ডিলারের গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে অতিরিক্ত বরাদ্দের সার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর পুলিশি সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা জানান, গাবতলা বাজারের ‘ভাই ভাই মেশিনারিজ’ নামের ডিলারের গুদামে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোরে সার বিতরণ শুরু করা হয়। সকাল ৮টার দিকে সেখানে আসা কৃষকরা সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএস রফিকুল ইসলামকে গুদামের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুদামের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরে দুপুর ১২টার দিকে ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় বিএস রফিকুল ইসলামকে গুদাম থেকে বের করে ইউএনওর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিএস মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ডিলারের গুদাম থেকে ৮০ বস্তা সার বিতরণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় বিতরণ শুরু করি। বিতরণ সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে। তবে বিতরণ শেষে কয়েক শ কৃষক এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।’
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার বলেন, সারের দাবিতে কিছু কৃষক সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, মাসভিত্তিক সারের বরাদ্দ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার দুই পয়েন্টে অতিরিক্ত ১৬০ বস্তা সার বিতরণ করা হয়েছে। সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় বেশি কৃষকের সমাগম হওয়ায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ওয়ার্ডভিত্তিক খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সার বিতরণের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘নাগেশ্বরী উপজেলায় ৪৫ জন ডিলারের পরিবর্তে বর্তমানে ৩০ জন ডিলার রয়েছেন। নতুন করে ডিলার নিয়োগ হলে আরও বেশি ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণ করা সম্ভব হবে।’
কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, ‘এবার বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের অনেক নিচু জমিতে আবাদ হয়েছে। এ কারণে সারের চাহিদা বেড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আরও সার বরাদ্দের জন্য বলা হয়েছে। আজ অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সার দেওয়া হবে।’
এই বাংলা/এমএস