সুস্থতা মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। মানুষ সাধারণত অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সুস্থতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে না। অথচ ব্যস্ত জীবনের অজুহাতে আজ আমরা অনেকেই অসুস্থ মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়ারও সময় বের করতে পারি না। ইসলাম এ অবহেলাকে সমর্থন করে না; বরং অসুস্থ মানুষের সেবা-যত্নকে ইবাদত এবং জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে ঘোষণা করেছে।
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সুস্থতা ও অবসর।’ (সহিহ বুখারি : ৬৪১২)। তাই সুস্থতার কদর করা এবং অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
হাদিসে রোগী পরিদর্শনের বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। রাসূল (সা.) সাহাবিদের রোগীর সেবা-যত্নের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, কোনো মুসলমান তার অসুস্থ ভাইকে দেখতে গেলে বসার আগ পর্যন্ত সে জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে। আর তার পাশে বসলে আল্লাহর রহমত তাকে আচ্ছাদিত করে এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। (ইবনে মাজাহ : ১৪৪২; আবু দাউদ : ৩০৯৮)।
আরেক হাদিসে এসেছে, রোগীকে দেখতে গেলে ফেরেশতা ঘোষণা করেন, ‘তুমি উত্তম কাজ করেছ, তোমার পথ কল্যাণময় হোক এবং জান্নাতে তোমার জন্য একটি আবাস প্রস্তুত হয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ : ১৪৪৩)। রোগীর সেবার গুরুত্ব বোঝাতে সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের দিন বলবেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি।’ বান্দা বিস্ময় প্রকাশ করলে আল্লাহ বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল। তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, তবে আমাকে তার কাছেই পেতে।’ (সহিহ মুসলিম : ২৫৬৯)। এ হাদিস প্রমাণ করে, অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম উপায়।
রোগীর সেবা শুধু ওষুধ বা অর্থ দিয়ে হয় না। আন্তরিক খোঁজখবর নেওয়া, কিছু সময় পাশে বসা, সান্ত্বনার কথা বলা, তার জন্য দোয়া করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করাও গুরুত্বপূর্ণ সেবা। অনেক সময় প্রিয়জনের একটি আন্তরিক সাক্ষাৎই রোগীর মনে নতুন আশা ও মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, যা সুস্থতার পথকে আরও সহজ করে।
তাই আসুন, অসুস্থ মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়াই। তাদের খোঁজ নিই, সাধ্যমতো সেবা করি এবং দোয়ায় স্মরণ রাখি। কারণ রোগীর সেবায় রয়েছে মানবতার সৌন্দর্য, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের সুসংবাদ।