হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের এনার্জি ড্রিংকস অবাধে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পানীয় সহজলভ্য হওয়ায় বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন মুদি দোকান, চায়ের দোকান ও পাড়া-মহল্লার খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ‘অ্যাকটিভ হর্স পাওয়ার’, ‘মাশরুম’, ‘হকিং’, ‘জিনসিন প্লাস’ ও ‘নাইট পাওয়ার’ নামে কিছু পণ্যও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্যের কিছুতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদনের তথ্য বা লেবেল নেই। আবার কিছু বোতলে ‘বিএসটিআই-এর আওতামুক্ত’ কিংবা ‘শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’ লেখা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও সহজেই এসব পানীয় কিনতে পারছে। এতে কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
চুনারুঘাটের একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলে, “গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে মাঝে মাঝে ড্রিংকস খাই। ক্ষতি হতে পারে শুনেছি, তবে খেতে ভালো লাগে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদি দোকানি জানান, এসব পানীয় বিক্রিতে লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক দোকানেই রাখা হয়। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে এগুলোর চাহিদাও রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত এসব পানীয়তে মাদক বা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো পরীক্ষাগারভিত্তিক বা সরকারি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো পানীয় বাজারজাত করা বৈধ নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া এ ধরনের পানীয়ের মান ও বৈধতা যাচাইয়ে বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে অনুমোদনহীন বা নিম্নমানের পণ্য বিক্রি বন্ধ করা যায় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।