শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

তিস্তার ভয়াল ভাঙনে রাজারহাটে বিলীন বসতভিটা, জিও ব্যাগও ভেসে যাচ্ছে স্রোতে

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যে একাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলমান পূর্ব তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলাকালেই নতুন করে শুরু হওয়া এই ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মো. ইদ্রিস আলী, মো. শহিদুল হক ও মো. আতাউল ইসলামের বসতভিটা নদীতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে আরও ২০ থেকে ২৫টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ৪০টি প্যাকেজের নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। ফলে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহেরুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও কাজের ধীরগতির কারণে মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে। লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শেষ না হলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব মো. মজিদুল ইসলাম জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে একটি প্যাকেজের কাজ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “রামহরি এলাকায় আগে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, কিন্তু তা টেকসই হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করে তিস্তার ভয়াল ভাঙন থেকে তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো খবর