বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গোয়ালগাঁও ফজিলত পাড়া এলাকার কৃষকরা ধান মৌসুমে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। মৌসুমজুড়ে বৃষ্টি, ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় তাদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধান চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষকদের বাড়তি খরচ ও শ্রম দিতে হয়। কিন্তু মৌসুমের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ বৃষ্টি বা ঝড় শুরু হলে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় কৃষক মো. মজিবর রহমান বলেন, “অনেক কষ্ট করে ধান ফলাই। কিন্তু বৃষ্টি-ঝড় শুরু হলেই মনে ভয় কাজ করে—কখন যে সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তা বলা যায় না।”
কৃষক মো. আব্দুল আউয়াল জানান, কৃষিকাজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় ঋণ নিয়ে চাষ করতে হয়। কিন্তু দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে সেই ঋণের বোঝা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অন্য কৃষক মো. আল আমিন বলেন, সময়মতো ধান কাটতে না পারলে জমিতে পানি জমে উৎপাদন কমে যায়। একইভাবে মোহাম্মদ বিপ্লব জানান, ফসলের মান নষ্ট হলে বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে।
কৃষকদের দাবি, সময়মতো সঠিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং কৃষি বিভাগের কার্যকর সহায়তা পেলে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সবশেষে কৃষকরা জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভালো ফলনের আশায় দিন গুনছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

