সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতি রোধে করণীয় নির্ধারণে ময়মনসিংহে বিভাগীয় তামাক বিরোধী সেমিনার-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার জেলা পরিষদ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি। এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজির প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) প্রদীপ কুমার সাহা। তিনি বলেন, জর্দা, গুল, বিড়ি ও সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকেই নিকোটিনসহ হাজারো ক্ষতিকর রাসায়নিক রয়েছে, যা মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি করে। তিনি আরও জানান, পরোক্ষ ধূমপান বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য জরিমানা বা কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কৃষি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা বলেন, তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং জলজ প্রাণীসহ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা তামাকের বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষক প্রতিনিধিরা বলেন, “ধূমপান স্মার্টনেস নয়”—এ ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সিগারেট বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন নয়, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি তামাক চাষের বিকল্প কৃষি উৎপাদনে প্রণোদনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর ওপর জোর দেন।
সেমিনার শেষে তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

