ত্রিশালে এলজিইডি-অস্তিত্বহীন ঠিকাদারের পকেটে পৌনে ৪ কোটি টাকা

কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে ধুলোবালির দুর্ভোগ: ত্রিশালে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

0
193
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম / ছবি - সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

কাগজে-কলমে পিচঢালা কালো মসৃণ পথ, আর বাস্তবে এক বিভীষিকাময় ধুলোবালির নরককুণ্ড। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চেলেরঘাট-আমতলী জিসি রোড ভায়া চান্দেরটেকি রাস্তাটির উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান চিত্র এটি। ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প স্থানীয়দের কাছে এখন উন্নয়নের স্মারক নয়, বরং এক ‘বিরাট প্রহসন’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এমআরআরআইডিপি (MRRIDP) প্রকল্পের অধীনে এই ২.৮ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। কেবল পেভমেন্ট ও সারফেসিং কাজের জন্যই বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, যা কাজ হয়েছে তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। বালুর বদলে সরাসরি মাটি এবং নিম্নমানের ২ ও ৩ নম্বর’ ইটের খোয়া দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে চলেছে এই প্রকাশ্য ‘হরিলুট’। নথিতে সহকারী, উপ-সহকারী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সিল-স্বাক্ষর থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তদারকির বালাই নেই। উন্নয়নের নামে পকেট ভারী করার এই মহোৎসবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাহেবরা আসে শুধু ঠিকাদারের সাথে চা খাইতে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এখন রাস্তার কাজ করছে। এভাবে রাস্তার কাজ করলে অল্প সময়ে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রকল্পের নথিতে সুরক্ষা কাজের জন্য ২২ লক্ষ এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো নিরাপত্তা চিহ্ন বা মজবুত গাইডওয়ালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিস্ময়কর তথ্য হলো, উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জনৈক ‘আলম’ নামক এক ব্যক্তির ঠিকাদারির কথা বললেও কাগজ-কলমে সেই নামের কোনো অস্তিত্বই নেই। এই ‘বেনামি’ ঠিকাদারের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেন এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি অসম্পূর্ণ পড়ে রইল? কেন ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের পরও দুর্ভোগ কমলো না? অবিলম্বে এই দুর্নীতির তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ​রাস্তাটি কি আদৌ আলোর মুখ দেখবে, নাকি দুর্নীতির অতল গহ্বরেই তলিয়ে যাবে? এই উত্তর এখন এলজিইডি’র ঊর্ধ্বতন মহলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা ও ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ সম্পন্ন হয়নি। তিনি দাবি করেন কাজের ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here