কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত–এ একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশের স্বপ্নরাজ্য পার্ক এলাকার বালুচরে ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যরা।
খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এক দিন আগেই ডলফিনটি মারা গেছে।
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, “সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ডলফিনটি তীরে ভেসে এসেছে। শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে যাওয়ায় কাছে যাওয়া কঠিন ছিল।”
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “উপকূলজুড়ে ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করা হলেও বারবার মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। প্রকৃত কারণ জানতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ বিষয়ে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামান বলেন, “ডলফিনটির মরদেহে তীব্র দুর্গন্ধ ছিল এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল। এ কারণে দ্রুত উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা উপকূলে আগেও একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চর-গঙ্গামতি কাঁকড়ারচর এলাকায় এবং এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর চর-গঙ্গামতির ‘৩৩ কানি’ এলাকায় দুটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি এবং ২০২৫ সালে ১১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ডলফিনের ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান না হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অজানা রয়ে গেছে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, মাছ ধরার জাল, নৌযান চলাচল, দূষণ কিংবা প্রাকৃতিক কারণ—যে কোনো কারণে এসব মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই ডলফিন সংরক্ষণে দ্রুত গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

