চার শিক্ষার্থী, ছয় শিক্ষক: মিঠাপুকুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের চিত্র

তথ্য সংগ্রহে বাঁধা দেন প্রধান শিক্ষক

0
280
‎মিঠাপুকুর উপজেলা আবিরের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় / ছবি - এই বাংলা

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি :

 

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় আবিরের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী মাত্র চার জন। অথচ এই চার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে বিদ্যালয়টিতে নিয়োজিত রয়েছেন ছয় জন শিক্ষক। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এর পাশাপাশি নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আবিরের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বছর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ছিল ছয় জন। চলতি শিক্ষাবর্ষে সেই সংখ্যা আরও কমে দাঁড়িয়েছে চার জনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। উপস্থিত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে দুই জন, চতুর্থ শ্রেণিতে একজন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বাইরে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ আলাদা কক্ষে বসে আছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, একজন শিক্ষিকা বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।

কাগজপত্রে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখানো হলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে নিয়মিত উপস্থিতি খুবই কম। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নির্ধারিত সময় মেনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং ইচ্ছামতো বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলামের আচরণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রধান শিক্ষক ছবি তুলতে নিষেধ করেন এবং হুমকিসূচক বক্তব্য দেন বলেও সাংবাদিকরা জানান।

উপজেলা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাহানা পারভিন বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সন্তোষজনক নয়। শিক্ষার্থী বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষকদের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগেও তদন্ত হয়েছে এবং প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বর্মন বলেন, বিদ্যালয়টিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে দু’বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here