
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারকে তার পদসহ সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মাহামুদুল হাসান।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগে বলা হয়, সরকারি বিধি অনুযায়ী নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বোচ্চ ৩০২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি নেওয়া হয়।
এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে শাহাজাহান সরকার নামের এক অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আদায়কৃত সেশন ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জামিনে থাকা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা এবং বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০টি দোকানঘরের ভাড়া বাবদ আদায়কৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব না রাখাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব কারণে তার প্রায় দুই বছর ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উৎপল কান্তি সরকার বলেন, রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ইউএনও তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে থাকতে বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো স্থগিতাদেশের লিখিত চিঠি পাননি বলে জানান।
ইউএনও মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক আহ্বান করা হয় এবং সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রধান শিক্ষকের পদসহ সব দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
