মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে রুপালি পর্দা: সোহেল রানার জীবন, কাজ আর শেষ চাওয়া

0
887
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের মানুষ সোহেল রানা / ছবি - এই বাংলা

স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা ও একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা। মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েই তাঁর চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু। সেই বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরার তাগিদ থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন-এ কাজ করেন। ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরে দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই ছবির মাধ্যমেই নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রার সূচনা হয়।

সোহেল রানা কখনোই নিজেকে প্রশিক্ষিত অভিনেতা হিসেবে দাবি করেননি। তাঁর ভাষায়, তিনি অভিনয় শিখে আসেননি, এমনকি শুরুতে অভিনয় জানতেনও না। তবে আল্লাহপ্রদত্ত সহজাত গুণই তাঁকে পর্দায় স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল। প্রথমদিকে অনেকেই তাঁকে সহজে গ্রহণ করেননি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজই কথা বলেছে। বাস্তব জীবন থেকে উঠে আসা অভিনয় ধীরে ধীরে দর্শকের ভালোবাসা এনে দেয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন। পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা, সরকারের পক্ষ থেকেও আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এসব অর্জন নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি একসময় তিনি ক্রিকেট, ফুটবল ও রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। জীবনের যে ক্ষেত্রেই যুক্ত হয়েছেন, সেখানেই সফলতার ছাপ রেখেছেন—এটাই তাঁর জীবনের বাস্তব চিত্র।

তবে ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রটি নিয়ে তাঁর একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি রয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ঐতিহাসিক কাজটির জন্য সরকারিভাবে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা স্বীকৃতি জানানো হলে ভালো লাগত।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেওয়া সাধারণ কার্ড বা কাগজ বাস্তব জীবনে খুব একটা কার্যকর নয়—হাসপাতাল বা জরুরি প্রয়োজনে তেমন সুবিধাও মেলে না। তবুও তিনি বিষয়টিকে অভিযোগ বা আক্ষেপ হিসেবে দেখেন না।

তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—এই কাজটি করা, মানুষের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এবং সেই কাজ থেকেই চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হওয়া।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে সোহেল রানা নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, জীবনে যা কিছু পেয়েছেন—সবই আল্লাহর দান। আর আল্লাহর কাছে যদি কিছু চাওয়ার থাকে, সেটি একটাই—ছেলের সঙ্গে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার সুযোগ।

প্রতিবেদক: ইরানী সুলতানা                                                                                                  দৈনিক এই বাংলা

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here