গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগার ব্যবহার করে খামারিদের দোরগোড়ায় দুধের গুণগত মান যাচাইকরণ নিশ্চিত করতে এক বিশেষ খামারি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খামারির দোরগোড়ায় দুধের গুণগত মান যাচাইকরণ” শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গাকৃবির ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের আয়োজনে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ সরবরাহে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ডেইরি ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগার প্রযুক্তির উদ্ভাবক ড. মোঃ মোর্শেদুর রহমান। প্রশিক্ষণে গাজীপুর জেলার কাউলতিয়া এলাকা থেকে ২০ জন এবং জেলার অন্যান্য অঞ্চল থেকে আরও ২০ জনসহ মোট ৪০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমান। পরে অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু মানসম্মত শিক্ষা নয়, গবেষণার মাধ্যমে কৃষিখাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগার একটি কার্যকর প্রযুক্তি, যা খামারি ও ভোক্তা উভয়ের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, খামারির দোরগোড়ায় দুধের মান যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হলে ভেজাল দুধের প্রবণতা কমবে, খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে নিশ্চিত হবেন।
প্রশিক্ষণের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পর্বে ড. মোর্শেদুর রহমান দুধের গুণগত মান নির্ধারণ, ভেজাল শনাক্তকরণ এবং ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগারের ব্যবহারিক দিকগুলো হাতে-কলমে উপস্থাপন করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, এই প্রশিক্ষণ খামারিদের জন্য জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করবে।
উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো গাকৃবি উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগার দুধের পুষ্টিমান নির্ধারণ, ভেজাল ও অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্তকরণ, ম্যাস্টাইটিস নির্ণয় এবং জীবাণু পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

