মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি :
ভোলার মনপুরা উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের দখিনা হাওয়া সি-বিচ সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাঁধ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দখিনা হাওয়া সি-বিচ থেকে নুরুউদ্দিন মার্কেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণে পুরোনো নকশা (ফোল্ডার) অনুসরণ না করে নদীর মধ্য দিয়েই বাঁধ তোলা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের বালি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তারা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের দাবি, কাজ শুরুর পর থেকেই তারা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। গত বছর একই দাবিতে আন্দোলনের সময় দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেদ নিহত হন।
নিহত রাসেদের বড় ভাই আজাদ বলেন, তার ভাই বাঁধের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারান। সে সময় নিয়ম মেনে পুরোনো নকশা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে আবার নদীর মাঝখানে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত সঠিক নকশা ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে পাউবো ডিভিশন-২-এর সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বাঁধের কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পাউবো ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা অভিযোগ নাকচ করে বলেন, নিয়ম মেনেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ঝুঁকি নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ মার্চ দখিনা হাওয়া সি-বিচ এলাকায় বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মো. রাসেদ নিহত হন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

