সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

উলিপুরে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় এসআইর বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে উলিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি অভিযুক্তকে আটক না করে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উলিপুর পৌরসভার নিজাই খামার এলাকার হাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে মজনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী বিথি বেগমকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর উভয় পক্ষের অভিভাবক ও গ্রামবাসী সালিশ বৈঠকে বসেন। এ সময় মজনুর বাবার ফোনের পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে এসআই খাইরুল ইসলাম এক পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই অভিযুক্ত মজনুকে হেফাজতে না নিয়ে তাকে শাসনের নামে একটি লাথি মারেন। এরপর মজনু সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাদের দাবি, অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসআই খাইরুল ইসলামকে কয়েক ঘণ্টা ঘটনাস্থলে আটকে রাখেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

তবে এসআই খাইরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ছেলেটিকে বের করে আনি। শাসন করার জন্য একটি লাথি মারি। পরে কথা বলার সময় সে পাশের দিকে চলে যায়, এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। আমাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। স্থানীয়দের অনুরোধে মীমাংসার চেষ্টা চলায় আমি দুই থেকে তিন ঘণ্টা সেখানে ছিলাম। অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এসআইর বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা নেওয়া ও অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ উঠলেও এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।

এই সম্পর্কিত আরো খবর