৫৩ বছর পর বাবার ‘হারানো আসন’ উদ্ধার: স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার জয়  

0
140
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা / ছবি - এই বাংলা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :


দীর্ঘ ৫৩ বছর পর বিশাল রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাবার হারানো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি-জমিয়ত জোট প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী–কে পরাজিত করে চমকপ্রদ বিজয় অর্জন করেন। ফলাফল ঘোষণার পর তিনি দাদা-দাদি ও বাবার কবর জিয়ারত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনে দীর্ঘদিন দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় কাজ করলেও জোটগত সমঝোতার কারণে মনোনয়ন পাননি রুমিন ফারহানা। ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবীকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দলীয় সিদ্ধান্তে জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও পদধারী ও পদবঞ্চিত অনেক নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী দল থেকে বহিষ্কৃত হন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনী এলাকায় ১৯টি ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে রুমিন ফারহানার পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। ভোটের দিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৫১টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সরকার এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীকে ১,১৮,৫৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী প্রায় ৮০ হাজার ভোট পান।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানার বাবা, ভাষা সৈনিক ও কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ অলি আহাদ কুমিল্লা-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সে সময় তার বিজয় ‘কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়’ বলে সমর্থকদের অভিযোগ ছিল।

বিজয়ের পর রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে অন্যায় ও জুলুমের জবাব দিয়েছেন। মহান আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় আমার বাবার হারানো আসন উদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন তাদের কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”

তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here