হাদি হত্যায় উত্তাল খানসামা: থানা ঘেরাও,টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ

0
259
শরিফ ওসমান বিন হাদির নির্মম হত্যার প্রতিবাদে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা উত্তাল / ছবি - এই বাংলা

স্টাফ রিপোর্টার :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদির নির্মম হত্যার প্রতিবাদে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা উত্তাল হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সারাদিন ও সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র-জনতা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কর্মসূচির আয়োজক ছিলেন খানসামা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধারা। বাদ জুমা পাকেরহাটের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয় প্রথম দফার বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি পাকেরহাটের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শাপলা চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, যুবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

বিক্ষোভে ‘হাদির হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার কর’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘বিচারহীনতার অবসান চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন প্রতিবাদী কণ্ঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু ঘটনার এতদিন পরও মূল অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা জানান, প্রয়োজনে আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও তীব্র হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী মাগরিবের নামাজের পর খানসামা বাজারে আবারও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড মিছিল এসে খানসামা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে একত্রিত হয়। পরে মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খানসামা থানার সামনে গিয়ে থানা ঘেরাওয়ে রূপ নেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ‘হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার কর’, ‘বিচার চাই’—স্লোগানে প্রকম্পিত হয় খানসামা বাজার।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় এড়ানো যাবে না।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানার সামনে ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদ শুধু খানসামায় নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি—দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here