সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা থামছেই না: মুক্তিপণের দাবিতে আরও ৩ জেলে অপহরণ

‎সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবীতে আরো তিন জেলে অপহৃত / ছবি - এই বাংলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে আবারও তিন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। বনাঞ্চলে অভিযান চললেও জেলে অপহরণের ঘটনা যেন থামছেই না।

বুধবার রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা তিন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—রায়হান (২২) ও সুমন (২৪)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়।

অন্যদিকে অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ১৪ জেলে মুক্তি পেয়েছেন। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের অধীনে কাজ করা এসব জেলেকে দস্যুরা ছেড়ে দেয়। তবে এখনো দুই মহাজনের অন্তত ১২ জন জেলে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় তার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ওই এলাকার বনাঞ্চল দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

সুন্দরবনের শুটকি জেলে পল্লী শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে জানান, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত প্রতিটি জেলেকে মুক্ত করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তিনি আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে অপহরণ করে। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে। এদের মধ্যে ১৪ জন জেলে মুক্তি পেয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামি করে বৃহস্পতিবার শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here