বরিশাল ব্যুরো :
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে পুনরায় চলাচল শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে বরিশালের উদ্দেশে এ শতবর্ষী নৌযান তার যাত্রা শুরু করে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সংস্কার শেষে নতুন রূপে ফিরেছে এই নদীপথের ক্লাসিক স্টিমারটি। ইঞ্জিন পরিবর্তন, কাঠের ডেক পুনর্নির্মাণ, বাহ্যিক কাঠামো নবায়নসহ বিভিন্ন আধুনিকায়ন করা হলেও স্টিমারের ঐতিহাসিক কাঠের গন্ধ, বাঁশির সুরসহ চিরচেনা বৈশিষ্ট্যগুলো আগের মতোই রাখা হয়েছে।
১৯২২ সালে নির্মিত পিএস মাহসুদ শুধু একটি পরিবহনযান নয়—এটি দেশের শতবর্ষী নৌ-ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক। বরিশাল-খুলনা-কলকাতা নৌরুটের অতীত ইতিহাসে এর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলা সাহিত্যে স্টিমারকে ঘিরে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়, বিশেষ করে কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর লেখা ও যাতায়াতের অভিজ্ঞতায় বহুবার এ স্টিমারের উল্লেখ করেছেন—নদীর রাত, জাহাজের আলোর রেখা আর যাত্রাপথের স্মৃতিমাখা অনুভূতির সাথে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মানুষের আগ্রহ, আবেগ ও ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে পিএস মাহসুদকে আবারও চলাচলে ফিরিয়ে আনল কর্তৃপক্ষ। নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে—
-
সুলভ শ্রেণি: ৬০০ টাকা
-
দ্বিতীয় শ্রেণি: ১,৬৫০ টাকা
-
প্রথম শ্রেণি: ২,৬০০ টাকা (ভ্যাটসহ)
বরিশালে স্থায়ী ঘাট না থাকায় স্টিমারটি আপাতত কীর্তনখোলা নদীর ত্রিশ গোডাউন পন্টুনে ভেড়ানো হবে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে আবারও ছেড়ে যাবে এই ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার।
নদীপথের দীর্ঘ ইতিহাস বুকে ধারণ করা পিএস মাহসুদ তাই আবারও ফিরেছে যাত্রীদের স্মৃতি, অনুভূতি আর নস্টালজিয়ার অমূল্য বাহন হয়ে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

