নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানামুখী সংকট ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থী সানাউল্লাহ রেজা শাদ। তার এই চিঠি ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চিঠিতে তিনি সরকারের শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়ে বলেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন, ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন—মৌলিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না হলে এই অগ্রগতি টেকসই হবে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তিনি শিক্ষক সংকটকে চিহ্নিত করেছেন। দেশের বহু কলেজে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে এই সংকট আরও প্রকট, যা শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভর করে তুলছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য বাড়াচ্ছে।
এছাড়া, শ্রেণিকক্ষ সংকটও দিন দিন তীব্র হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং শেখার কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।
চিঠিতে দেশের চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এখনও পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে এবং কন্যাশিক্ষা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
নদীভাঙনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। অস্থায়ী ব্যবস্থায় পাঠদান চালু থাকলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ল্যাব নেই বা অপ্রতুল, ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা গড়ে উঠছে না।
তিনি বিজ্ঞান ক্লাব, বিজ্ঞান মেলা এবং গবেষণামুখী কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
চিঠির শেষাংশে তিনি দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, চরাঞ্চলে শিক্ষা সম্প্রসারণ, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সচেতন মহলের মতে, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এমন তথ্যভিত্তিক ও বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

