বাগেরহাট প্রতিনিধি :
মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখতে এবং ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্পের সুফল ধরে রাখতে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি সংরক্ষণ (ম্যান্টেন্যান্স) ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর মেয়াদি ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই নতুন এই প্রকল্প হাতে নেয় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইনার বার ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত নাব্যতা ধরে রাখাই নতুন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নিয়মিত পলি অপসারণের মাধ্যমে পশুর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং বড় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা হবে।
বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অতীতে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেটিতে প্রায় সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। এতে বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়বে এবং জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমে আসবে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক ড্রেজিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ড্রেজিং কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পশুর চ্যানেলে নিয়মিত পলি জমার কারণে সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের নাব্যতা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে, জাহাজ চলাচল আরও সহজ হবে এবং বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
টপিক

