মানিকগঞ্জে শীতকালীন মধুবৃক্ষ উৎসব: খেজুরের রস ও হাজারীগুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছীরা

0
168
মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ / ছবি - এই বাংলা

শিবালয় প্রতিনিধি :

মানিকগঞ্জের গ্রামে-গ্রামে শীতকালীন মৌসুমে খেজুর গাছ বা ‘মধুবৃক্ষ’ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছীরা। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে তারা মাটির হাড়িতে রস নিয়ে চলে যান বাড়িতে, যেখানে তা জ্বাল দিয়ে বিশেষভাবে খেজুর গুড় তৈরি করা হয়।

জেলার হরিরামপুর, শিবালয়সহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিটি গ্রামে গাছীরা খেজুর কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত। খেজুর রস থেকে তৈরি ‘হাজারীগুড়’ হরিরামপুরে বিশেষভাবে পরিচিত। এই রসের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, শীত যত বাড়ে, গুড়ের মিষ্টিতা তত বাড়ে। পুরো শীতকাল জুড়ে গ্রামে-গ্রামে চলতে থাকে রস সংগ্রহ ও গুড় ও পাটালি তৈরির উৎসব।

স্থানীয়রা জানান, দানা, ঝোলা ও নলেন গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণই আলাদা, যা রসনা তৃপ্তিতে অতুলনীয়। শীত মৌসুমে গুড় ও পাটালির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অকাল শীতে খুঁজেও মৌসুমের আসল গুড় পাওয়া যায় না। যারা অর্ডার না দেয়, তাদের জন্য হাজারীগুড় পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের মিজান খন্দকার বলেন, “আমার বয়স অনেক হয়ে গেছে, তাই এবার মাত্র কয়েকটি গাছ কাটছি। তা নিয়েই গুড় তৈরি করে ঝিটকার হাটে বিক্রি করি। এখন আর আগের মতো গাছীও নেই, খেজুর গাছও কম।”

কালই গ্রামের কালাম বিশ্বাস জানান, তিনি বংশগতভাবে গাছী। নিজে গাছ কাটেন এবং অন্যান্য গাছীদের কাছ থেকে রস কিনে গুড় বানান। বাড়িতে বড় মাটির চুলায় তাপাল বসিয়ে একসাথে অনেক রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেন। প্রতিদিন তিনি প্রায় ৮-১০ কেজি গুড় তৈরি করেন।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গ্রামে বাড়ির পাশে বা মাঠে অযত্নে থাকা খেজুর গাছগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যদিও সংখ্যা কমে গেছে, তবুও শীত মৌসুমে রস ও গুড়ের উৎসব গ্রামের জীবনে আনন্দ ও নতুন গতি সৃষ্টি করে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়, খেজুর গুড় ও পাটালি শিল্প দেশীয় চাহিদা পূরণ ছাড়াও বিদেশে রফতানি করে বড় অর্থ আয় সম্ভব।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here