পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু রাইয়ান মল্লিকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির চাচাতো ভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর আতরখালী গ্রামের মো. রাসেল মল্লিকের ছেলে রাইয়ান মল্লিক নিখোঁজ হয়। ওই দিনই শিশুটির মা সাইয়েদা তন্বী ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তে নিয়ে পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা রুজু করা হয়।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি সন্দেহজনক চিরকুট উদ্ধার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও তদন্ত কৌশল ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, চিরকুটটি নিহত শিশুর চাচাতো ভাই মো. রিয়াদ মল্লিকের (১৯) হাতের লেখা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ মল্লিক স্বীকার করেন, প্রতিবেশী মো. সাইদুল ইসলামের প্ররোচনায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি এই ঘটনায় জড়িত হন। সাইদুল ইসলামের নির্দেশে তিনি মসজিদের বারান্দায় চিরকুটটি রেখে আসেন।
রিয়াদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার বসতঘরের সামনে থাকা গোয়াল ঘরে অভিযান চালায়। সেখানে খড়কুটার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু রাইয়ান মল্লিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. রিয়াদ মল্লিক (১৯), মো. মিজান মল্লিক (৪২) – রিয়াদের বাবা, মোসা. পারভীন বেগম (৩৫) – রিয়াদের মা, মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬) – ঘটনার পরিকল্পনাকারী বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, অপহরণকারীদের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায় বা ব্যক্তিগত আক্রোশ পূরণ। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

